Logo
শিরোনাম
না ফেরার দেশে চলে গেলেন ফকির আলমগীর। জাহাজেরনগর সত্য এক আনন্দ নগর আমি শোকে দেখিঃ কনকচাঁপা সে হোসেনের ঈদ ক্যাটলো যেমন পাটুরিয়ায় ৫ মিনিটের রজনী, তারপরে ফ্রেটি ছুটী দৌলতদিয়া মাননীয় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা যানিয়েছেন মাতৃবাংলা ২৪ টিভি পরিবার। করোনায় সচেতনতার সাথে কুরবানী করুন। সর্বস্তরের জনগণকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনাব সৈয়দ মোঃ আলমগীর হোসেন ! নওগা ৬ আসনের এমপি মোঃ আনোয়ার হোসেন (হেলাল) ও রানী নগর উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রউফ (দুলু) কে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা যানিয়েছেন রাব্বী চৌধুরী। এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও আবুল কালাম আজাদ কে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা যানিয়েছেন মাতৃবাংলা ২৪ টিভির চেয়ারম্যান। “২৮ তম ওয়ান্ডে সিরিজ জয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ কে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা যানিয়েছেন মাতৃবাংলা ২৪ টিভির চেয়ারম্যান। জিম্বুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ জেটিং রিপোর্টারেটর রাজধানী বাগেরহট্টে ছাত্রলীগ কর্মী ডাক্তার কুপি জখম প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজ সেবিকা শারমিন সুলতানা পেয়ারা নিশ্চয় নিশ্চয় নিশ্চয় নিশ্চয় নিশ্চয় হতে নি নিশ্চয়।।। স্থানান্তরিত জীবনযাত্রার চলমান নম্বর: সিআইডি মেসি-নামদারও সংঘর্ষক স্টেট! ৩১ জুলাই কারখানা খুলুন না গার্মেন্টস স্থান শহরজুড়ে সন্ধ্যা মালতী

গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে সুন্দরী ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, কি আছে মামলার এজহারে–

মাতৃবাংলা ২৪ টিভির ডেস্ক রিপোর্ট:-

২৬ এপ্রিল: রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম মোসারাত জাহান (মুনিয়া)। তিনি গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ওই ফ্ল্যাট একাই থাকতেন বলে জানা গেছে।

মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মোসারাত জাহানের বাড়ি কুমিল্লা শহরে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। মেয়েটির পরিবার কুমিল্লায় থাকে।

জানা গেছে, মোসারাত জাহানের সঙ্গে একটি ছেলের পরিচয় ছিল। তিনি ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন বলেও তথ্য পেয়েছেন তারা।

মোসারাতের বড় বোনের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মোসারাত জাহান রোববার তার বড় বোনকে ফোন করে বলেন, তিনি সমস্যায় পড়েছেন। এ কথা শুনে তার বড় বোন সোমবার কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। সন্ধ্যার দিকে ওই ফ্ল্যাটে যান তিনি। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও দরজা না খুলায় বাইরে থেকে লক খুলে ঘরে ঢুকে বোনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি জানান। তখন পুলিশে খবর দেয়া হয়।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং মোসারাতের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। মরদেহ উদ্ধারের পর গুলশান থানার পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মুনিয়ার ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জব্দ করেছে।

গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, রাতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর-২৭।

মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরে। সেখানেই থাকে তার পরিবার। জানা গেছে, মামলার আসামি করা হয়েছে দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)।

মামলার বরাত দিয়ে উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীবলেন, মেয়েটির সঙ্গে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডির সম্পর্ক দুই বছরের। এমডি এক বছর মেয়েটিকে বনানীর ফ্ল্যাটে রাখেন। পরে মনোমালিন্য হলে মেয়েটি কুমিল্লায় চলে যায়। তবে গেল মার্চ মাসে ঢাকায় এসে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন।

উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, গুলশানের ওই বাসায় গত ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে ওই এমডির মনোমালিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, যেকোনও মুহূর্তে তারা যেকোনও ঘটনা ঘটতে পারে।

এরপরই সোমবার বিকেলে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন ওই তরুণীর বোন। তবে গুলশানের ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান তিনি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শোবার ঘরে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতে এলে ওই এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত করছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল তেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

উপকমিশনার আরও জানান, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাটটির মাসিক ভাড়া ১ লাখ টাকা। সেখানে অগ্রিম দেয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। এরইমধ্যে দুই মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।

মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুসরাত জাহান বলেন, আমি নিজে বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেছি।

মৃত কলেজছাত্রীর বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, মুনিয়ার লেখা আনভীরকে নিয়ে প্রেম কাহিনীর ডায়েরি পুলিশ হেফাজতে নেয়। এতে আরো বলা হয়েছে, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন।
২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং মোসারাতকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, সবশেষ গত ১লা মার্চ আসামি মোসারাতকে প্ররোচিত করেন। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখে। আসামি বাসায় আসলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
এজাহারে বলা হয়, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবে। কারণ, দেশে থাকলে আসামির বাবা-মা আসামিকে কিছু না করলেও তার বোনকে মেরে ফেলবেন। ১লা মার্চ থেকে আসামি মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
এতে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। মোসারাত তাকে বলেছেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাতকে) মেরে ফেলবেন।

এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫শে এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।

সহ প্রকাশক,
এস এ আশিক
মাত‌বাংলা ২৪ টিভি
আপডেট নিউজ পেতে,
পেইজ:- মাতৃবাংলা ২৪ টিভি
ওয়েবসাইট:- matribangla.com
ইউটিউব চ্যানেল:- মাতৃবাংলা ২৪ টিভি
ই-মেল:- matribanglanews@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Design & Maintenance By Abu Bokkor Siddik
error: এই সাইটের নিউজ কপি করা বেআইনী !!