সৌরভ হাসান হাসিব, স্টাফ রিপোর্টার,মাতৃবাংলা।
দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতের তিনটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’ নামের এই অভিযানে শনিবার ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের বিয়াস এলাকায় অবস্থিত ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতাগারে হামলার কথাও বলেছে ইসলামাবাদ।
ব্রহ্মস একটি অতি উন্নত ও সুপারসনিক গতির ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। এর উন্নয়ন কাজ করেছে ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোসট্রোয়েনিয়ার যৌথ মালিকানাধীন। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম এসেছে ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদ ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর প্রথম অংশ মিলিয়ে।
পাকিস্তানের সরকারিভাবে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত আমাদের দেশ, জনগণ ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা চালিয়েছে। আমাদের তিনটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তাই আমরা প্রতিরক্ষা ও পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছি।’ পাকিস্তান দাবি করে, ভারতের আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’ পরিচালনা করা হয়েছে। আরবি ভাষার এই শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘সুদৃঢ় প্রাচীর’।
এই মুহূর্তে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের দাবি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং হামলার তথ্য যাচাই করে দেখছে।
উল্লেখ্য, কাশ্মীরের পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল এক বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত সরাসরি এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। ওই ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকে উত্তেজনা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালায়। তারই জবাবে পাকিস্তান চালায় ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’। পাল্টাপাল্টি অভিযানে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা সীমিত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা গোটা উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।