Logo
শিরোনাম:
সরকার ও জনগণ: প্রত্যাশা আর দায়িত্বের নতুন সমীকরণ মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন নৈতিক বিপ্লব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। উত্তরা পশ্চিম থানার আহবায়ক মোস্তফা কামাল হৃদয় এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের স্মরণে গাজীপুর মহানগর তাঁতি দল-এর শ্রদ্ধাঞ্জলি। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে বিএনপি এটা নিশ্চিত-মোস্তফা কামাল হৃদয় ৯ নং ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই রাজু আহমেদ তাইজুল ৯ নং ওয়ার্ড বাসীর সেবক হতে চাই মো: বাবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: জামির হোসেন সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চাই :নাজমুল হোসেন মন্ডল ৪৪ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন করাই হলো আমার মুল লক্ষ্যে আলী আহামদ টুক্কু

বন্দুকের ফাঁকা গুলিতে ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ১৯৮তম ঈদুল আজহার জামাত আদায়,লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ,চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়

প্রতিনিধি,সৌরভ হাসান হাসিব,মাতৃবাংলা।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে শনিবার (৭ জুন) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮তম ঈদুল আজহার জামাত। দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ করেছেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। ঈদের জামাত শুরুর আগে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হয়।

জামাতে ইমামতি করেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদের জামাত শুরুর আগে তিন ধাপে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়—জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি গুলি। এটি শোলাকিয়া ঈদের জামাতের পুরনো ঐতিহ্য।

ঈদ জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে এসে জড়ো হন। রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ পরিচালনা করা হয়। এছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নেয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মাঠে ও আশেপাশে মোতায়েন ছিল র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ব্যবহার করা হয় মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে গেট, ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ড্রোন ক্যামেরা।

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ১৮২৮ সালে, যেখানে মুসল্লির সংখ্যা ছিল মাত্র ১২৫ জন। কালের পরিক্রমায় সেই জামাত আজ লাখো মুসল্লির ঈদগাহে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

ময়মনসিংহ থেকে আগত মুসল্লি হাফিজুর রহমান বলেন, “শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়তে আসা আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এই মাঠে নামাজ আদায় করলে এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।” একই কথা জানান গাজীপুর থেকে আসা আব্দুর রহিম, “এখানে মানুষের ভিড় আর তাকওয়ার আবহ অন্যরকম।”

এই বিশাল জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost