জাকারিয়া শিকদার, এডিটর-ইন-চিফ,মাতৃবাংলা।
শিল্প কারখানায় চাঁদাবাজিসহ দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।রোববার(৬জুলাই) সন্ধ্যায় বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিএনপির মিডিয়া উইং এর সদস্য শায়রুল কবির চিঠি দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃত বিএনপি নেতারা হলেন-গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার (পাপ্পু), গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবদুল হালিম মোল্লা, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য জিয়াউল হাসান (স্বপন) ও টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম (সাথী)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ দলীয় শৃঙ্খলা এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী। সুতরাং এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে রোববার দুপুরে চাঁদাবাজি ও মামলা বানিজ্যসহ নানা অভিযোগে গ্রেফতার হন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী জিয়াউল হাসান স্বপন ওরফে জিএস স্বপন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বপন পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি সাবেক বিএনপি নেতা পরিচয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছিলেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় চারটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সোমবার (৭ জুলাই) আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া হবে।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ওই চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীর জায়গা নেই। এসব বিষয় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে বহিষ্কারের খবরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলের অনেক নেতাকর্মী এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন, এতে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতি প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।তবে বহিষ্কৃতদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’ বলেও অভিহিত করেছেন—যা দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন।