নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আলমগীর হোসাইন,
গাজীপুরের শ্রীপুরে জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে জীবনসংগ্রামে লড়াই করে যাচ্ছেন দুই তরুণ— রফিকুল ইসলাম রায়হান ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. বাপ্পি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তারা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে, চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রায়হান (২৯) ২০১৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪, মাওনা চৌরাস্তা অবদার মোড়ে আন্দোলনরত অবস্থায় বিজিবির গুলিতে তার বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে গিয়ে তিনি ও তার পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
রায়হান আক্ষেপ করে বলেন,“আহতের পর থেকে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসা না পেলে হয়তো আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারব না।
একই এলাকার চন্নাপাড়ার কিশোর মো. বাপ্পি (১৬) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ৩ আগস্ট ২০২৪, বকুলতলা হাইওয়ে থানার সামনে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বাপ্পির বাবা মোঃ মোজাম্মেল বলেন,
“বাপ্পি আমার একমাত্র ছেলে। ওর চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছে ধার-দেনা করে চলছি। কিন্তু খরচ এত বেশি যে আর পেরে উঠছি না। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ওর জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়।
আহত রায়হান ও বাপ্পি ইতোমধ্যে সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিকট আর্থিক সহযোগিতা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, সরকারের মানবিক সহযোগিতা পেলে আবারো সুস্থ হয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দেশের জন্য আন্দোলনে আহত এই তরুণদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।