জেলা প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্ণেল কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে অভিযোগপত্রটি তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না তার প্রকৃত সম্পদের বড় একটি অংশ গোপন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরে তার বিপুল পরিমাণ অঘোষিত সম্পদ রয়েছে। হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের তুলনায় তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ হাজারগুণ বেশি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করে তিনি দেশে ও বিদেশে স্ত্রীর নামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ গোপন করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগ দাখিলের পর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্ণেল সাংবাদিকদের বলেন, “২০১৪ ও ২০১৮ সালে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে হাবিবে মিল্লাত মুন্না সংসদ সদস্য হন। এর মধ্যে একবার তিনি বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। বাস্তবে তার সম্পদের পরিমাণ ঘোষিত সম্পদের চেয়ে হাজারগুণ বেশি। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের দুর্নীতি করার সাহস না পায়।”
অভিযোগপত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মসংক্রান্ত আরও বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।