
ঢাকা থেকে / তোফায়েল আহমেদ
স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ম্যাস এডুকেশন ইন সায়েন্স (সিএমইএস), ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার ২০২৬ ঢাকাস্থ জেনিয়াল রেস্টুরেন্টে "Advancing Gender Equality: Empowering Women and Girls" বিষয়ে প্রকল্পের একটি সমাপ্তি সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল গত তিন বৎসরে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির অর্জিত জ্ঞান এবং তার অর্জন নিয়ে আলোচনা।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দাতা সংস্থা, সরকারী ও এনজিওর কর্মকর্তাবৃন্দ ও মাঠ পর্যায় থেকে আগত নারী ও কিশোরী, কমিউনিটি লিডার ও কর্মীবৃন্দ। দাতা সংস্থা কমনওয়েল্থ অফ লারনিং (COL) এর অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
সিএমইএস এর কর্ম এলাকার ৭টি ইউনিটে তৃণমুল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীরা কিভাবে নানা প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন করে কম্পিউটার, ড্রেস মেকিং, ভার্মি কম্পোস্ট ট্রেড স্বকর্ম সংস্থান করেছে এবং তাদের নিজেদের ও অন্য কিশোরীদের বাল্য বিয়ে বন্ধ সহ বিভিন্ন সচেতনমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন- জীবিকা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সেবায় ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, বয়স্ক পুরুষ ও ছেলেদের সম্পৃক্ততা, নেতৃত্ব উন্নয়ন ও অ্যাডভোকেসি, মেয়েদের জন্য নিরাপদ বিদ্যালয়, মেয়েদের শিক্ষা উন্নয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা স্তর থেকে ঝরে পড়া প্রতিরোধ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জলবায়ু সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে তারই সার্বিক আলোচনা ছিল সেমিনারের উদ্দেশ্য।
মাঠ থেকে আগত প্রকল্পের সুবিধা বঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের কয়েকজন তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। প্রকল্পটির বিস্তারিত বর্ণনা, ভিডিও এবং উপস্থাপনার মাধ্যমে পেশ করা হয়। আমন্ত্রিত বক্তারা এ নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী সেশনে- প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মুহাম্মদ ইব্রাহীম স্বাগত বক্তব্য দেন দেশে কিশোরী ক্ষমতায়নে এই প্রতিষ্ঠানের কয়েক দশকের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব আব্দুর রউফ, সচিব (সাবেক), প্রকল্পের বিষয়টিতে সিএমইএস এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার উল্লেখ করেন, এবং সরকারী উদ্যোগের সঙ্গে তার সমন্বয়ে এগুবার বিভিন্ন বষয় সামনে আনেন।
প্রকল্পটির কার্যক্রম এবং অর্জন উপস্থাপন করেন সিএমইএসএর নির্বাহী পরিচালক জনাব মো. ওমর ফারুক হায়দার। মিসেস হাসিনা আক্তার খানম, সহকারী পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তার বক্তব্যে তৃণমূলে নারী ও কিশোরী ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপগুলো পেশ করেন। ভিডিও প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
এরপর প্রকল্পের সাথে জড়িত কমিউনিটি লিডার এবং স্কুল শিক্ষকদের প্রতিনিধিরা প্রকল্পে তাঁদের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা গুলো শেয়ার করেন। Centre of Women and Children Studies (CWCS) এর সভাপতি অধ্যাপক ইসরাত শামিম কিশোরী-কিশোরী এবং নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রকৌশলী মো. মাহবুব হায়দার বেসরকারী খাতেও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের এরকম প্রচেষ্টার প্রশংসা করে একাজে সরকারী-বেসরকারী যৌথ প্রচেষ্টায় সহায়তার আশ্বাস দেন-বিশেষ করে তৃণমূলে নারীদের কারিগরি দক্ষতাকে কারো উচ্চ মূল্যায়নের নিশ্চিত করাটির উপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানটির মূল এবং সমাপ্তি বক্তব্য রাখেন কানাডায় দাতা সংস্থা COL সদর দফতর থেকে এই প্রকল্প পরিদর্শনে আসা COL এর সিনিয়র এডভাইজার মিজ ফ্রান্সিস ফেরাইরা। তিনি ২০১৩ সালে প্রকল্পের শুরু থেকে তাঁর অভিজ্ঞতাগুলোর বর্ণনা দেন। নারী উন্নয়ন, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের কী পরিস্থিতি ও কী
চেতনা থেকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে একই সঙ্গে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছিলো নানা তথ্য ও সংখ্যাতাত্ত্বিক অর্জনের চিত্র দিয়ে তিনি তা ব্যাখ্যা করেন। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিএমইএস যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে তার তথ্য সমৃদ্ধ উপস্থাপন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভাষান্তর করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুর প্রকল্প এলাকা থেকে আসা কিশোরীদের চারণ দল ও গীতিনাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।