মাতৃবাংলা স্টাফ রিপোর্টার
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ গণভোট শেষ হলো।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ সকাল ৭:৩০টা থেকে শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৪:৩০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হলো। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪২ হাজার ৭০০টির বেশি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, জেলা সদর, উপজেলা, পৌর এলাকা এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই ভোটারদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি
ভোরের আলো ফুটতেই অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের সারি দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে—ভোট শুরুর আগেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। তরুণ ভোটার ও প্রথমবারের ভোটারদের উৎসাহও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল ৮টার পর থেকেই ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক এলাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শহর ও গ্রাম—সবখানেই ভোটের আমেজ শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলেও ছিল উৎসবের আবহ। গ্রামীণ এলাকায় অনেক ভোটার পরিবার-পরিজন নিয়ে কেন্দ্রে আসেন। বয়স্ক ভোটারদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে অনেক কেন্দ্রে।
কিছু এলাকায় ভোটার উপস্থিতি সকালবেলায় কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর তা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ড সদস্যরা কেন্দ্রে ও আশপাশে দায়িত্ব পালন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিলো। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।
নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত ছিলো। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ
এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় ধরনের সহিংসতা বা ভোট বন্ধের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কেন্দ্রে সামান্য প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক বিলম্ব হলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও অধিকাংশ কেন্দ্রে উপস্থিত রয়েছেন। প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচন কমিশন পুনরায় জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছিলো।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
ভোটাররা জানান, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট। অনেকেই বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে ভালো লাগছে।” নারী ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ফলাফলের অপেক্ষা
ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে ৪.৩০ মিনিটে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।