লেখক: মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি, কেন্দ্রীয় কমিটি
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কেবল বাহ্যিক কারণ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নৈতিক অবক্ষয়, দেশপ্রেমের অভাব এবং সীমাহীন লোভ অনেকাংশে দায়ী।
একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে এখন ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
রাজনীতিতে দেশপ্রেম ও মানবিকতার আবশ্যকতা
রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বরত ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং মানবপ্রেম জাগ্রত করা এখন সময়ের দাবি। হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। আমার বিশ্লেষণ মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পূর্বের ইতিহাস ও সততা যাচাই করা আবশ্যক। অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোই দুর্নীতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন সাধারণ নাগরিকরা যেন কোনো প্রকার হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া তাদের প্রাপ্য সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সমাজ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের (দালাল-চামচা) দৌরাত্ম্য নির্মূল করতে হবে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান দ্রুত উন্নত হবে।
বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও দার্শনিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি। তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।
সরকার মানে কেবল শাসন নয়, সরকার হলো পুরো জাতির অভিভাবক। এই মনোভাব নিয়ে যদি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তবেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব। প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে হানাহানি মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ কেবল এশিয়ায় নয়, বরং ইউরোপের অনেক উন্নত দেশের সমকক্ষ হতে পারবে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। লোভ-লালসা বিসর্জন দিয়ে সত্যিকারের মানবিক গুণাবলি ধারণ করলেই আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র।