লেখকঃ নয়ন মুনির, নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক বাংলার বিপ্লব , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি, কেন্দ্রীয় কমিটি
একটি রাষ্ট্র কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক সামাজিক চুক্তি। সরকার পরিচালনা করে ক্ষমতা দিয়ে, আর জনগণ শক্তি দেয় বিশ্বাস দিয়ে। এই দুইয়ের ভারসাম্য নষ্ট হলেই দূরত্ব তৈরি হয়। তাই বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সরকারের করণীয় কী, আর জনগণ আসলে কী চায়?
প্রথমত, অর্থনীতি। দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা। বাজারে গেলে নাগরিক যে অস্বস্তি অনুভব করেন, সেটিই এখন রাজনীতির সবচেয়ে বড় সূচক। প্রবৃদ্ধির হার যতই আশাব্যঞ্জক হোক, যদি পরিবারের বাজেট টেকসই না হয়, তবে উন্নয়নের ভাষ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ আমদানি নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
দ্বিতীয়ত, সুশাসন। দুর্নীতি নিয়ে মানুষের হতাশা নতুন নয়। কিন্তু প্রত্যাশা আছে এবার কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করা, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা, এই পদক্ষেপগুলো আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
তৃতীয়ত, গণতান্ত্রিক পরিবেশ। একটি শক্তিশালী সরকার সমালোচনাকে ভয় পায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ যত বিস্তৃত হবে, রাষ্ট্র তত স্থিতিশীল হবে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি এখানে অপরিহার্য।
চতুর্থত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড এখানেই। গ্রাম-শহরের ব্যবধান কমানো, সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য সহজপ্রাপ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
জনগণের প্রত্যাশা খুব জটিল নয়। তারা স্বস্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, ন্যায্যতা চায়। তারা চায় রাষ্ট্র তাদের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হোক।
শেষ পর্যন্ত, সরকার ও জনগণের সম্পর্ক একমুখী নয়। সরকার দায়িত্ব পালন করবে, জনগণও সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। কর পরিশোধ থেকে শুরু করে আইন মানা সবই এই চুক্তির অংশ।
আস্থা যদি ফিরে আসে, উন্নয়ন তখন আর স্লোগান থাকে না, বাস্তব হয়ে ওঠে। এখন দেখার বিষয়, এই সময়ের চ্যালেঞ্জে সরকার কতটা সংবেদনশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।