গাজীপুর মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ডে আপন প্রতিবন্ধী ছোট ভাইয়ের বউকে মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ড.আনোয়ার হোসেন রতন(৪৮) ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন(৩৬) এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার(১১ই ডিসেম্বর) সকাল ৯.০০ টার দিকে মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ড পশ্চিম ধীরাশ্রম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,আনোয়ার হোসেন রতন,মেজো ভাই দেলোয়ার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাই জাকির হোসেন তারা তিন ভাই একসাথে বাড়ি করে।বাড়ি করার সময় তাদের মা জীবিত ছিলো।বাড়ি করার ৬মাস পর থেকেই বড় ভাই প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে জমি-জমা থেকে বঞ্চিত করতে অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে।এক একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পৈতৃক বাড়ি ভেঙে নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাকির। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হয়। সালিশে সাদা কাগজে লিখিতভাবে জাকিরের ঘর ভেঙে নিয়ে আসার একটি চুক্তিপত্র হয়।এরপর স্থানীয় সালিশে রায় দেওয়ার পর মিস্ত্রি নিয়ে বাড়ি ভাঙ্গার কাজ শুরু করলে বড় ভাই আনোয়ার হোসেন রতন ছোট ভাই জাকির কে হত্যার হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করে।এসময় প্রতিবন্ধী জাকিরের স্ত্রী ও শাশুড়ি তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে আনোয়ার হোসেন রতন জাকিরের শাশুড়ীকে চুলের মুঠি ধরে ফেলে দেয়।এরপর জাকিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার মিমি(২৮) চিৎকার চেঁচামেচি করলে তাকে দুই হাতে গালায় চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে।এসময় জাকিরের স্ত্রী বাঁচার জন্য জোরাজুরি করলে আনোয়ার তার তলপেটে সিজারের স্থানে একাধিক লাথি ও মুরা মারে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে,এতে রক্তক্ষরণ হয়।এরপর এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী জাকির হোসেন বলেন,স্যার আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী।আমার দুইটা কিডনি সমস্যা।আমার বড় ভাই আনোয়ার আমাকে জমিজমা থেকে বঞ্চিত করতে আমাকে দুরবল পেয়ে নিয়মিত হুমকি,অত্যাচার ও নির্যাতন করে।গতকাল আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে।আমি এর সুষ্ঠু একটা বিচার চাই।
মেঝো ভাই দেলোয়ার হোসেন মাতৃবাংলা নিউজে জানান,আমার ছোট ভাই জাকির শারীরিক প্রতিবন্ধী। বড় ভাই রতন ধীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে মাদক খেয়ে আমাদের উপর নির্যাতন করে।আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমার মাকেও সে নির্যাতন করেছে,আমার মা তার নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলো।তার বিরুদ্ধে থানায় একের পর এক অভিযোগ দিয়েও কোন সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছি না।সে নিয়মিত হুমকি দেয় আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলবে।আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,আনোয়ার হোসেন রতন পেশায় একজন ডাক্তার হলেও তার কর্মকান্ড মোটেও ডাক্তারের মত নয়।তার ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসতেছে।এ নিয়ে স্থানীয় বিচার সালিশ হলেও এলাকাবাসী ও গন্যমাণ্য লোকেদের রায় অমান্য করে প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে নির্যাতন করে।এর সুষ্ঠু একটি বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগ এর বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রথমে অভিযুক্ত বড় ভাই ডা.আনোয়ার হোসেন রতন এর নিজ বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজেপাওয়া যায় নি,পরে মুঠোফোনে জানান,তিনি নরসিংদীর রায়পুরায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি খটকা লাগলে এরপর তাকে খুঁজতে গাজীপুরের কে.কে হাসপাতালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।তবে কিছুখন পর রোগীর ছদ্মবেশে তাকে ফোন কারা হলে রুগী দেখতে মুহুর্তেই নরসিংদী থেকে গাজীপুরের কে.কে হাসপাতালে হাজির ড.আনোয়ার হোসেন রতন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন,আমি কাউকে মারি নি,উল্টো তাদের জন্য আমি বাড়িতে থাকতে পারছিনা। গোপনে ধারণকৃত মারামারির দৃশ্যটি তাকে দেখানো হলে,সেটিও অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আমিনুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,”লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”