নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কর্মী কবির আহমেদ ওরফে পিস্তল কবির–এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মাঝে চাপে থাকা নানা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বহুদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং আর্থিক সুবিধা আদায় করতেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।অভিযোগ: ‘পিস্তল দেখিয়ে আদায় করতেন অর্থ’।এলাকাবাসীর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার আমলে কবির আহমেদ পিস্তল প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন। সে সময় তার সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী থাকতেন, যারা বিভিন্ন এলাকায় দলবেঁধে ঘোরাফেরা করতেন। এ কারণে এলাকাবাসী তার নামের আগে ‘পিস্তল’ উপাধি জুড়ে দেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদের বিরোধিতায় অবস্থান নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলন চলাকালে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের সাথে থাকতেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতেন। এতে ছাত্র-অভিভাবক ও স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্র বলছে, টঙ্গী পশ্চিম থানার সামনের এলাকাতেই তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা নিয়েও মানুষের মাঝে প্রশ্ন রয়েছে। শহুরে এলাকায় সম্পত্তি ও আর্থিক উৎস নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা গেলেও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি বলে এলাকাবাসী জানান।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের দাবি: ‘দ্রুত গ্রেফতার প্রয়োজন’বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার নামে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতারে উদ্যোগ নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। মামলা থাকা ব্যক্তিকে আইনের বাইরে রাখা যায় না—যে-ই হোক।” সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ তার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়দের দাবি—থানার একাধীক কর্মকর্তা তার বিলাসবহুল বাড়িতে ভাড়া থাকেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে গ্রেফতার প্রক্রিয়া এগোয়নি। এলাকাবাসীর মতে সাম্প্রতিক সময় থেকে কবির আহমেদ এলাকায় অনুপস্থিত এবং তিনি ‘পলাতক’ অবস্থায় রয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবির আহমেদের মোবাইল নম্বর ও যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। টঙ্গী পশ্চিম থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীন খান জানান কবির কে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলমান। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অভিযোগের মুখোমুখি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। নইলে সমাজে অবিশ্বাস ও শঙ্কা বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তারা।