রাজু আহম্মেদ তাইজুল :
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এক কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিবিসি টেলিভিশনের পরিচালক ও স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি সালাউদ্দিন চৌধুরী।
শনিবার গাজীপুর নিজ কার্যালয়ে রুপসী বাংলা টেলিভিশন এর বিশেষ প্রতিনিধি সানজিদা রুমা দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে কথা বলেন।সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটি শার্ট তৈরি করতে সুতা, কাপড়, ডাইং, ওয়াশিং, আয়রন- প্রতিটি ধাপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গত এক বছর ধরে আমরা গ্যাসের চাপ সংকটে ভুগছি। ফলে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট চালাতে ডিজেলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় আমাদের উৎপাদন খরচ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। অথচ বায়াররা সেই অনুযায়ী দাম বাড়াচ্ছে না।
তিনি জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানা শিফট কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে একদিকে শিপমেন্ট ডিলে হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মালিকদের। আমরা চাকরি দিতে এসেছি, চাকরি খেতে নয়। কিন্তু বাধ্য হয়ে অনেক সহকর্মীকে লে-অফে পাঠাতে হচ্ছে, যা খুবই বেদনাদায়ক বলেন তিনি।
রপ্তানির বিপরীতে ডলার পেলেও কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে গিয়ে ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই শিল্পপতি। আমাদের প্রধান কাঁচামাল কটন, ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজের ৭০ ভাগই আমদানি নির্ভর। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে সঠিক সময়ে কাঁচামাল আসে না। ফলে লিড টাইম বেড়ে যায়। ক্রেতারা তখন অর্ডার বাতিল করে ভিয়েতনাম বা ভারতে চলে যায়। এতে আমরা শুধু অর্ডার নয়, বাজারও হারাচ্ছি, বলেন ডিবিসি’র পরিচালক।
সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের কাছে ৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান:
জ্বালানিতে অগ্রাধিকার: রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে শিল্পের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়া।
সহজ এলসি:পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাংকগুলোতে আলাদা ডলার কোষাগার তৈরি এবং ৯০ দিনের ইউজেন্স এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া।
নীতি সহায়তা: আগামী ২ বছরের জন্য উৎসে কর ও কর্পোরেট কর কমানো এবং ইডিএফ ফান্ডের পরিমাণ ও মেয়াদ বাড়ানো।
এত সংকটের মধ্যেও আশাবাদী সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রধান শক্তি আমাদের দক্ষ শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। আমরা ২০০৮ সালের মন্দা, কোভিড পার করে এসেছি। এবারও পারব।
তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় তার প্রতিষ্ঠান ‘স্টাইলিশ গার্মেন্টস’ গ্রিন ফ্যাক্টরি, সোলার প্যানেল ও অপচয় কমানোর দিকে নজর দিয়েছে। আমরা এখন ম্যান-মেড ফাইবার ও হাই-ভ্যালু প্রোডাক্টের দিকে যাচ্ছি। শুধু ৫ ডলারের টি-শার্ট বানালে এই বাজারে টিকে থাকা কঠিন।তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশ হওয়া যাবে না। বিশ্ববাজারে এখনো ‘মেড ইন বাংলাদেশ এর আলাদা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। কমপ্লায়েন্স, গুণগত মান ও সময়মতো শিপমেন্ট- এই তিনটি ঠিক রাখলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জল।