জাকারিয়া শিকদার/গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিল্লাল মিয়া (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফরিদা বেগম (৩৮) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানাধীন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেট এলাকার কাউন্সিলর রোডে শাহাবুদ্দিনের ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল মিয়া জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার আজমতপুর এলাকার তুলু মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কুনিয়া এলাকায় মাসুদুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আহত ফরিদা বেগম ভোলা জেলার রতনপুর থানার নবিপুর গ্রামের মৃত হোসেনের মেয়ে। তিনি ঘটনার স্থান শাহাবুদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা বেগমের আগে একাধিকবার বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। তবে গত প্রায় আট মাস ধরে বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল।বৃহস্পতিবার সকালে ভাড়া বাসায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রূপ নেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৃতীয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, আহত বিল্লাল মিয়াকে কে বা কারা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে মৃত অবস্থায় রেখে চলে যায়। তবে কারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেননি স্থানীয়রা। গুরুতর আহত ফরিদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে তাইরুননেছা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান।
গাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ জানান, হাসপাতাল থেকে ফোনে জানানো হয়, এক ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে স্বজন বা সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা চলে গেছেন। এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রাথমিক তদন্তে নিহতের পকেটে থাকা কাগজপত্র ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী গাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দীন জানান, নিহতের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত আট মাস ধরে বিল্লাল মিয়া ও ফরিদা বেগমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ফরিদা বেগম বিল্লালের সঙ্গে দেখা করতে এলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।