নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকচালক মোঃ মহির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাব-৫ এর সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের সদস্যরা নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ট্রাকচালককে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মহির উদ্দিন (২৭) নাটোর জেলার বামনডাঙ্গা (তেবাড়িয়া) এলাকার বাসিন্দা।তার পিতার নাম সোনা মিয়া।
জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৬৫) পিতা মোঃ জিল্লুর রহমান, তার ছেলের অসুস্থ স্ত্রী মোছাঃ নিসি খাতুন (২২)-কে নিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৯৭৯২) কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের বড়াইগ্রাম থানাধীন তরমুজ পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪৮৬৪)-এর সাথে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ৮ জনের সকলেই প্রাণ হারান।নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ৫ জন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালকসহ আরও ২ জন মারা যান।
নিহতদের পরিচয় : ১। মোছাঃ আনোয়ারা বেগম (৫৫), স্বামী মোঃ শহিদুল ইসলাম।২। মোছাঃ আনোয়ার, স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান।৩। মোছাঃ শেলি (৫০), স্বামী মোঃ জাহিদুল।৪। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৬৫), পিতা জিল্লুর রহমান।৫। মোঃ শাহাব আলী (মাইক্রোবাস চালক), পিতা জয়নাল আবেদীন।৬। মোছাঃ আঞ্জুমানআরা (৭০), স্বামী মোহাম্মদ আলী।৭। ইতি বানু (৪০), স্বামী রফেজ চৌধুরী।৮। সিমা খাতুন (৪০), স্বামী মোহাম্মদ আলী।
নিহতরা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ ও বেতবাড়িয়া গ্রামের এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভোলারদার গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানায় মামলা নং-২৫, তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৫ইং, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯৫/৯৮/১০৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এবং গ্রেফতারকৃত ট্রাকচালককে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।