Logo
শিরোনাম:
সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ বললেন, কলম সৈনিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার অধিকার আদায়ের বজ্রকণ্ঠ: কান্দিগাঁওবাসীর জীবন বাঁচানোর লড়াই। ফেসবুকে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন: ‘জীবনে চাঁদাবাজি করিনি’ – শফিকুল ইসলাম শফিক শতবর্ষী মাদ্রাসায় উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ত্যাগী-নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা: কফিল উদ্দিন আহম্মেদ জ্বালানি তেল সংকট ও ডলার ক্রাইসিসে কাঁপছে পোশাক শিল্প: দ্রুত নীতি সহায়তা চান ডিবিসি’র পরিচালক ও স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী পরিচ্ছন্ন ৫০ নং ওয়ার্ড বিনির্মাণের অঙ্গীকার আব্দুস সালাম তরুণদের নিয়ে স্মার্ট ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এস,আই টুটুল গাজীপুরে তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগ: সিটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রফিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ১১ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও মানবিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে সেলিম হোসেন মন্ডল, সকলের দোয়া প্রত্যাশী।

পায়ে হেঁটে এভারেস্ট: শাকিলের বিশ্বজয়

সৌরভ হাসান হাসিব, স্টাফ রিপোর্টার,মাতৃবাংলা।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা গ্রামের তরুণ ইকরামুল হাসান শাকিল গড়েছেন এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি জয় করেছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। এই অনন্য অভিযানকে তিনি নাম দিয়েছেন—‘সি টু সামিট’। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে শাকিল শুধু একটি পর্বত নয়, জয় করেছেন লক্ষ কোটি তরুণের হৃদয় ও বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক গৌরব।

২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইনানী সৈকত থেকে এককভাবে যাত্রা শুরু করেন শাকিল। এরপর পাড়ি দেন চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং হয়ে পৌঁছান নেপাল। এভারেস্ট বেজক্যাম্পে পৌঁছান ২৯ এপ্রিল। তারপর শুরু হয় আরোহণের চূড়ান্ত পর্ব। ১৯ মে নেপাল সময় সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়, যেখানে তিনি ওড়ান বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

শুধু অভিযান নয়, তার এই যাত্রা ছিল একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক বার্তা বহনকারী পদক্ষেপ। জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দীর্ঘ পদযাত্রা করেন তিনি।

শাকিল তার এই কীর্তির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছেন ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপের গড়া রেকর্ড। স্নেপ ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে পায়ে হেঁটে ৯৬ দিনে জয় করেছিলেন এভারেস্ট। শাকিল ৮৪ দিনে পাড়ি দিয়েছেন আরও বেশি দূরত্ব।

তার এই অভিযানে পাশে ছিলেন দেশের সাধারণ মানুষ, যারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে তার জন্য দোয়া করেছেন। এভারেস্ট বিজয়ের পর তার মা শিরিনা বেগম আবেগভরে বলেন, “ছেলে শুধু বলল, ‘মা আমি চূড়ায়, ভালো আছি।’ এরপর কান্না থামাতে পারিনি। আজ আমি গর্বিত একজন মায়ের পরিচয়ে।”

শাকিল সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন। তবে পায়ে হেঁটে এভারেস্ট জয়ের মতো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ আগে কেউ নেননি। এর ফলে তিনি এখন শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নজর কেড়েছেন।

এই সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন, সংকল্প আর সাহস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost